৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি ‘রাফাল’ কিনছে ভারত
ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে। ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের আগেই চুক্তির প্রস্তুতি ও বিস্তারিত।
নিউইয়র্ক/ঢাকা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা এখন ৪ হাজার ২০০ ডলারের সীমা ভেঙেছে। এই অভূতপূর্ব উত্থানকে বিশেষজ্ঞরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘গোল্ড রাশ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। যদি এ বছর এখনই শেষ হতো, তবে এটি ১৯৭৯ সালের পর সোনার জন্য সেরা বছর হতো, কেননা এ বছর দাম বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশের বেশি। শুধু সোনাই নয়, প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ এবং রুপার দাম বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।
সোনার এই লাগামহীন দামবৃদ্ধি আসলে ‘বিশ্ব উদ্বেগের ব্যারোমিটার’ হিসেবে কাজ করছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার এই উত্থান মূলত বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা পরিবর্তনের ফল। যখন মানুষ কোনো দেশের মুদ্রা বা বন্ডের ওপর বিশ্বাস হারায়, তখনই তারা সোনা বা রুপার মতো সম্পদের দিকে ঝুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের শুল্ক-যুদ্ধের তীব্রতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এই দাম বাড়ার মূল কারণ। জেপি মরগান চেজের সিইও জেমি ডাইমন মনে করেন, পোর্টফোলিওর কিছু অংশ সোনায় রাখা এখন আংশিকভাবে যুক্তিযুক্ত।
ডলারের প্রতি অনাস্থা: সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট ফার্মের প্রধান কেন গ্রিফিন সতর্ক করেছেন, একসময় ডলারকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করা হলেও এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা সোনাকে সেই স্থান দিচ্ছে যা উদ্বেগের কারণ।
২০২২ সালে রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দের ঘটনা ছিল টার্নিং পয়েন্ট। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের রিজার্ভ ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে সোনা কেনা দ্বিগুণ বাড়িয়েছে—বার্ষিক ৫০০ টন থেকে প্রায় ১ হাজার টন। চীন সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং পোল্যান্ড, সার্বিয়া, চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো দ্রুত সোনার ভান্ডার তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপও বিনিয়োগকারীদের সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফেড যদি রাজনৈতিক চাপে সুদের হার কমাতে শুরু করে, তবে সুদবিহীন সোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ায় ফেড ইতিমধ্যে সুদের হার কমাতে শুরু করেছে। ফলে ব্যাংকে নগদ রাখা বা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের আগ্রহ কমছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। রুপার চাহিদা শিল্প খাতে, বিশেষত সৌর প্যানেল তৈরিতে ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দাম আরও বেড়েছে।
সোনার সমালোচকেরা, যার মধ্যে বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট অন্যতম, মনে করেন সোনা কোনো উৎপাদনশীল সম্পদ নয়, এটি মূলত ‘ভয়কে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ’। বাফেটের মতে, যখন দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে এবং বাজারে ‘ফোমো’ (FOMO) বা অতিরিক্ত উন্মাদনা তৈরি হয়, তখন বুঝতে হবে বিনিয়োগের সময় দেরি হয়ে গেছে। স্মরণকালের সেরা বছরটি ছিল ১৯৭৯ সাল, যখন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড তুলে নেওয়ার পর স্ট্যাগফ্লেশন ও তেলের সংকটে সোনার দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা ফিউচারস, গোল্ড-ব্যাকড স্টেবলকয়েন এবং গোল্ড ইটিএফ (এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড) সহ বিভিন্ন উপায়ে সোনা কিনছেন।