৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি ‘রাফাল’ কিনছে ভারত
ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে। ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের আগেই চুক্তির প্রস্তুতি ও বিস্তারিত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কায় দিন গুনছে ইরানের সাধারণ মানুষ। তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে মার্কিন হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং সম্ভাব্য বোমাবর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ ইরানিরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
তেহরানের প্রতিটি ঘরে এখন যুদ্ধের প্রস্তুতি। বাসিন্দারা বোমার কম্পন থেকে বাঁচতে জানালার কাঁচে স্কচটেপ লাগাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বেঁচে থাকার উপায়। সাধারণ মানুষ ১০ দিনের শুকনো খাবার ও পানি মজুত করছেন। এমনকি বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদী রোগীরা তিন মাসের অগ্রিম ওষুধ কিনে রাখছেন। স্থানীয়দের মতে, হামলা শুরু হলে সরকার সমর্থক বা বিরোধী—কারও রক্ষা থাকবে না।
ইরানের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে গত ডিসেম্বরের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি। একদিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, অন্যদিকে বাইরের যুদ্ধের হুমকি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ। বিদেশে থাকা লক্ষ লক্ষ ইরানিও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে দেশে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানের এই চরম সংকটকে পশ্চিমা কিছু মহলে ‘বিনোদনের খোরাক’ হিসেবে দেখার অভিযোগ উঠেছে। ৩১ জানুয়ারি রাতে ইরানে হামলা হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক জুয়া খেলার ওয়েবসাইটগুলোতে হাজার হাজার ডলারের বাজি ধরা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘মানবিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানি তরুণ প্রজন্ম।