ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া
ডারউইন, ১৫ মে: ঢাকার সঙ্গে মুম্বাইয়ের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’।…
ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালে মার্কিন অভিযানের সময় আফগানিস্তানের তোরা বোরা পাহাড় থেকে নারীর বেশে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু ভারতের সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানের তোরা বোরা পাহাড়ে আল-কায়েদার নেতা লাদেনসহ অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল।
১৫ বছর সিআইএতে কাজ করা এবং পাকিস্তানে সিআইএর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কিরিয়াকু তাঁর সাক্ষাৎকারে অভিযানের সময়ের একটি মারাত্মক ভুলের কথা জানান।
কিরিয়াকু বলেন, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডারের দোভাষী যে আসলে ‘আল-কায়েদার সদস্য’ ছিলেন, তা মার্কিন বাহিনী জানত না। সেই দোভাষী পরিচয় লুকিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়েছিলেন।
কিরিয়াকু দাবি করেন, তোরা বোরা পাহাড়ে কোণঠাসা হওয়ার পর আল-কায়েদা নেতা দোভাষীর মাধ্যমে মার্কিন কমান্ডারকে অনুরোধ করেন, যেন ভোর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়, যাতে তারা নারী ও শিশুদের সরিয়ে দিতে পারে। দোভাষী তৎকালীন কমান্ডার জেনারেল ফ্র্যাঙ্কসকে সেই দাবি মানতে রাজি করিয়ে ফেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা ঘটে তা হলো, “বিন লাদেন নারীর বেশে অন্ধকারের মধ্যে পিকআপ ট্রাকের পেছনে করে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।”
কিরিয়াকু জানান, ভোরের আলো ফোটার পর তোরা বোরা পাহাড়ে আত্মসমর্পণ করার মতো কেউ ছিলেন না। সবাই পালিয়ে যাওয়ায় মার্কিন লড়াইটা পাকিস্তান পর্যন্ত সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
পরে যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পায় এবং ২ মে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তাঁকে হত্যা করা হয়।
ওই অভিযান এবং সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা। তিনি সরাসরি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে ‘কিনে নিয়েছিল’।
কোটি কোটি ডলার সহায়তা: কিরিয়াকু বলেন, “আমরা কোটি কোটি ডলার সহায়তা দিতাম। সামরিক কাজের জন্যই হোক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নকাজের জন্যই হোক, সহায়তা দেওয়া হতো।” তিনি জানান, মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্রকে যা করতে চেয়েছিল, তা–ই করতে দিতেন।
মোশাররফের সাংঘর্ষিক ভূমিকা: তবে মোশাররফের কিছু অভ্যন্তরীণ চাপ ছিল। তাঁকে তাঁর দেশের সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখতে হতো, যারা আল-কায়েদা নিয়ে নয়, বরং ভারত নিয়ে বেশি ভাবত। ফলে চরমপন্থীদের সন্তুষ্ট রাখতে তাঁকে সাংঘর্ষিক ভূমিকা পালন করতে হতো।
কিরিয়াকু আরও জানান, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ আল-কায়েদা ও আফগানিস্তানের দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল, ভারতীয় উদ্বেগের দিকে তাঁদের মনোযোগ ছিল না।