৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি ‘রাফাল’ কিনছে ভারত
ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩.২৫ লাখ কোটি রুপিতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে। ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের আগেই চুক্তির প্রস্তুতি ও বিস্তারিত।
জেরুজালেম: গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘মহান দিন’ এবং সামরিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করলেও, এই চুক্তি তাঁর সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিকে তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। চুক্তি মেনে নেওয়ার বিষয়টি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ‘শেষের শুরু’ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও ইসরায়েলের সমাজের প্রায় সবাই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছেন, নেতানিয়াহুর জোটের ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টি এবং নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি তীব্র বিরোধিতা করেছে।
এই চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী, ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে, যাদের মধ্যে ২৫০ জন সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কট্টর জাতীয়তাবাদীদের কাছে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে গাজায় ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং গাজা দখল না করার অঙ্গীকার করতে হবে। এর ফলে গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপন ও গাজা দখলের তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে।
মন্ত্রিসভায় চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিলেও স্মোটরিচ ও বেন গাভির এখনো পদত্যাগ করেননি। তবে ভোটের আগে বেন গাভির হুমকি দিয়ে বলেন, “হামাসের শাসন ভেঙে না ফেলা হলে জিউইশ পাওয়ার সরকারই ভেঙে দেবে।” এই চরম ডানপন্থীদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করেই নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে সরকার টিকিয়ে রেখেছেন।
নেতানিয়াহুর কৌশল ও ট্রাম্পের চাপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার বিষয়টি নেতানিয়াহুর ওপর আন্তর্জাতিক চাপকে স্পষ্ট করেছে। ট্রাম্প গত সপ্তাহে স্পষ্ট করেন যে গাজা যুদ্ধে তাঁর ধৈর্য কমে এসেছে এবং তিনি এটিকে শেষ করার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, এটি ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার কেবল ‘প্রথম ধাপ’—অর্থাৎ জিম্মিদের বিনিময়ে বন্দিবিনিময় এবং ইসরায়েলি সেনাদের আংশিক পুনর্বিন্যাস। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় যেসব ভবিষ্যৎ ধাপ রয়েছে (যেমন সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পরিচালনার জন্য বিকল্প কমিটি), সেগুলোর বিষয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।
তবে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠরা যুক্তি দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী জোট ভেঙে আগাম নির্বাচন দিতে হলেও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ছিলেন। রাজনৈতিক কৌশলবিদ নাদাভ শেঠাউখলার মনে করেন, সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির সম্ভাবনা এবং ট্রাম্পের ইসরায়েল সফরের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে এখন সরে আসার সময়টি যথাযথ ছিল।
সরকার পতনের আশঙ্কা
বিরোধী নেতারা এখন চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদি চুক্তি দ্বিতীয় ধাপে যায় এবং ইসরায়েলকে গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা সরাতে হয়, তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার ভেঙে যাবে এবং তাঁর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
যদিও ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, বিরোধী নেতারা মনে করছেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে নেতানিয়াহুর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে ইতিবাচক খবর হলো, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এখন ইসরায়েলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বেড়েছে।